এক সময় যাদের মাথার ওপর ঝুলছিল মৃত্যুদণ্ড বা আমৃত্যু কারাবাসের খড়্গ, সময়ের পরিক্রমায়
তারাই এখন জনগণের রায়ে সংসদ সদস্য। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের তিন শীর্ষ নেতা।
১. লুৎফুজ্জামান বাবর (নেত্রকোনা)
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর দীর্ঘ ১৮ বছর কারাবন্দি ছিলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পান তিনি।
নির্বাচনী ফলাফল: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
২. আবদুস সালাম পিন্টু (টাঙ্গাইল)
সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কারামুক্ত হওয়ার পর তিনি নিজ এলাকা টাঙ্গাইলের গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে নির্বাচনে অংশ নেন।
নির্বাচনী ফলাফল: ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে তিনি প্রায় ২ লাখ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
৩. এটিএম আজহারুল ইসলাম (রংপুর)
জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে এক যুগেরও বেশি সময় (২০১২-২০২৫) কারাবন্দি ছিলেন। গত মে মাসে তিনি মুক্তি পান এবং নির্বাচনে রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচনী ফলাফল: এই আসনে তিনি বিএনপি প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ কারাবাস এবং মামলার রায়কে ভোটাররা 'রাজনৈতিক নিপীড়ন' হিসেবে গ্রহণ করায় এই নেতাদের প্রতি জনসমর্থন বা 'সিমপ্যাথি ভোট' ব্যাপকভাবে কাজ করেছে। ফলে ব্যালট বক্সে তারা অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: