নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড়
ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফুজ্জামান বাবর। তবে এই আসনে জামানত হারিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় নেত্রী জলি তালুকদারসহ দুই নারী প্রার্থী।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে এই চিত্র উঠে এসেছে।
ভোটের পরিসংখ্যান ও ফলাফল
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আল হেলাল তালুকদার পেয়েছেন ৩৯,৩০৯ ভোট।
অন্যদিকে, ভোটের মাঠে লড়াই করা দুই নারী প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল নগণ্য:
জলি তালুকদার (সিপিবি - কাস্তে প্রতীক): ৩,৩৫৯ ভোট।
চম্পা রানী সরকার (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি - কোদাল প্রতীক): ২৮২ ভোট।
জামানত হারানোর কারণ
নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর জামানত রক্ষার জন্য মোট বৈধ ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পাওয়া বাধ্যতামূলক। নেত্রকোনা-৪ আসনে মোট ২ লাখ ৬ হাজার ৩০৭টি বৈধ ভোট পড়েছে। সেই হিসেবে জামানত টিকিয়ে রাখতে একজন প্রার্থীকে অন্তত ২৫,৭৮৯টি ভোট পেতে হতো। জলি তালুকদার ও চম্পা রানী সরকার উভয়ই এই কোটা পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেত্রকোনা-৪ আসনে লুৎফুজ্জামান বাবর অত্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী। ইতিপূর্বে তিনবার সংসদ সদস্য থাকাকালীন এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করায় তার একটি বিশাল জনভিত্তি রয়েছে। হেভিওয়েট প্রার্থীদের এই লড়াইয়ে ছোট দলগুলোর নারী প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারেননি। আসনটিতে এবার ৫৬.৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।
এসআর
মন্তব্য করুন: