নির্বাচনী প্রচারণায় ভিন্ন এক বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আধুনিক যানবাহন পরিহার করে কখনো সাধারণ রিকশা, কখনো গ্রামবাংলার ভ্যানে চড়ে তিনি পৌঁছে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়।
রোববার দুপুরে গলিমবাবুর হাট এলাকায় এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। আসন্ন গণভোটকে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “দেশকে কিছু অসাধু মানুষ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখন সময় রাষ্ট্রকে মেরামত করার। যারা পরিবর্তন চান, সংস্কার চান—তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।” গণভোট নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি থাকলেও এই ভোটের মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত ইচ্ছা স্পষ্ট হবে বলে দাবি করেন তিনি।
ক্ষমতায় এলে সামাজিক সুরক্ষায় বড় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিএনপি মহাসচিব জানান, ৫০ লাখ মায়ের জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য আলাদা কার্ডের মাধ্যমে কম দামে সার, বীজ ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। কৃষকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান এবং মায়েদের এনজিও ঋণের দায় সম্পূর্ণ মওকুফের প্রতিশ্রুতিও দেন ফখরুল।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই—সবাই সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। নিজেদের অধিকার আদায়ে সাহসী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতেও পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই মির্জা ফখরুলের সাদামাটা চলাফেরা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যায়। বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর করিমকে সঙ্গে নিয়ে সাধারণ একটি রিকশায় চড়ে তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। শীতের সকালে সেই রিকশা যাত্রায় কয়েকশ নেতাকর্মী পায়ে হেঁটে তার সঙ্গে অংশ নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিআইপি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ রিকশা ও ভ্যান ব্যবহার করে মির্জা ফখরুল মূলত সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের কৌশল নিয়েছেন। জগন্নাথপুর থেকে প্রায় ২৯ মাইল ভ্যানযাত্রা স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা ও দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: