বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তিস্তা ব্যারেজভিত্তিক মহাপরিকল্পনা অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে তিস্তা অববাহিকার পানির ন্যায্য ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং অঞ্চলটিকে মরুকরণের আশঙ্কা থেকে রক্ষা করা যাবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বাধীন চলাচল ও মতপ্রকাশ নিশ্চিত করাই বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দিনাজপুরের সঙ্গে নিজের পারিবারিক ও আবেগঘন সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই এলাকায় তার নানির বাড়ি রয়েছে এবং এখানকার মানুষ তাকে আপনজন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি দিনাজপুরবাসীর কাছে ভোট ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এখানকার মাটি উর্বর এবং কৃষকেরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। কাটারী ভোগ চাল ও দিনাজপুরের লিচু দেশের অন্যতম সেরা কৃষিপণ্য। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে এসব পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দিনাজপুর কেবল দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ভরসা নয়, বরং বৈশ্বিক কৃষিবাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হতে পারে।
বিএনপির কৃষিনীতি সম্পর্কে তিনি জানান, দলটি শুধু কাঁচা কৃষিপণ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। কৃষিভিত্তিক শিল্প ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করে কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। এতে কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষি খাত অবহেলার শিকার হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কৃষক তাদের পণ্যের ন্যায্য দাম পায়নি। ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’—এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আশ্বাস দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষকের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা হবে। দিনাজপুর অঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, হিমাগার ও রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি গণতান্ত্রিক, কৃষিবান্ধব ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং দিনাজপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন।
উল্লেখ্য, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি ছিল উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত।
এসআর
মন্তব্য করুন: