গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায়
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার বিকেলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ার প্রত্যয় জানান।
বক্তব্যের মূল পয়েন্টসমূহ:
বেতন বৈষম্য নিরসন: ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শিল্প কারখানায় নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য দূর করা হবে।
নারী শ্রমিকদের বিশেষ সুবিধা: কর্মজীবী মায়েদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মায়েরা ৩ ঘণ্টা বাসায় থাকবেন এবং ৫ ঘণ্টা কাজ করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি কারখানায় বাধ্যতামূলক মানসম্মত ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপনের অঙ্গীকার করেন তিনি।
দুর্নীতি ও অর্থ পাচার: গত ১৫ বছরে দেশ থেকে সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, "ক্ষমতায় গেলে পাচারকারীদের পেট থেকে টাকা বের করে আনা হবে।" তিনি উন্নয়নের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করেন।
গাজীপুরের উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা: গাজীপুরকে একটি সুশৃঙ্খল শিল্প এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ৪০ লক্ষ শ্রমিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব: যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলে দেশের নেতৃত্ব তাদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির।
নির্বাচনী অঙ্গীকার: তিনি বলেন, "রাজার ছেলে রাজা হবে—এই প্রথা আর চলবে না। শ্রমিকের সন্তানও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতা হবে।" তিনি দুর্নীতিমুক্ত দেশ এবং ন্যায়বিচারের শাসন কায়েমের শপথ নেন।
জনসভার চিত্র:
দুপুরের পর থেকেই ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠ নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। জামায়াত আমির হেলিকপ্টারযোগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। অনুষ্ঠানের শেষে তিনি জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন এবং নির্বাচনী প্রতীক 'ধানের শীষ'-এর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: