[email protected] বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২২ মাঘ ১৪৩২

জামায়াতের আমীরকে রিজভী

কিছুদিন পর হয়তো গোলাম আজমকেই স্বাধীনতার ঘোষক বলা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৬:৩৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকে উদ্দেশ করে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, জামায়াত নেতারা ধারাবাহিকভাবে ইতিহাস বিকৃত করে আসছেন। কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন, কয়েকদিন পর হয়তো তারা দাবি করবেন—গোলাম আজমই স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতারা রাজনৈতিক স্বার্থে মিথ্যাচার থেকে কখনো বিরত থাকেন না।

ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করাকে তিনি ‘মুনাফেকির চরিত্র’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইসলাম এই ধরনের ভণ্ডামিকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে।


তার এই বক্তব্যের পেছনে প্রেক্ষাপট হিসেবে উঠে আসে—সোমবার চট্টগ্রামে এক সমাবেশে জামায়াত আমিরের দেওয়া মন্তব্য, যেখানে তিনি একাত্তরে এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদের স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
এ প্রসঙ্গে রিজভী রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে বলেন, ১৯৮৬ সালে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা ও জামায়াত—উভয় পক্ষই মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সিদ্ধান্ত বদল করেছিল।

কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সেই নির্বাচনে অংশ নেননি। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দিত্ব সহ্য করেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। এ কারণেই জনগণ তাকে বারবার সমর্থন দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।


স্বাধীনতার ঘোষক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। একজন মেজর হিসেবে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

সেই সময় যারা তার সঙ্গে কাজ করেছেন, তারাও নিজেদের স্মৃতিচারণ ও গ্রন্থে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন বলে জানান রিজভী।


তিনি আরও বলেন, এখন জামায়াত রাজনৈতিক সুবিধা নিতে অলি আহমদকে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

অথচ অলি আহমদ নিজেও কখনো এমন দাবি করেননি; বরং তিনি সবসময় নিজেকে জিয়াউর রহমানের সহকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


জামায়াতকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন পাকিস্তানি বাহিনী দেশের মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তখন জামায়াত সেই নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি।

বরং তারা হানাদারদের সহযোগিতা করেছে। সেই ইতিহাস মাথায় রেখেই আজকের বক্তব্যগুলো মূল্যায়ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।


এ সময় আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং, মাইনুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর