মানুষের জীবনমান ও দেশের সার্বিক অবস্থার পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাষানটেকের বিআরবি মাঠে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, গত ১৫–১৬ বছরে দেশ কী অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে, তা জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন একটি ভালো ও টেকসই পরিবর্তন চায়। মানুষ চায় নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চলাচলের নিশ্চয়তা।
বিশেষ করে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, অতীতে দেখা গেছে—যখনই দেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে, তখনই উন্নয়ন হয়েছে এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি আবারও ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে জনগণের সমর্থন কামনা করেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর ঢাকা-১৭ আসনে এটি তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ। এর আগে তিনি সিলেট থেকে দলের প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেন।
ভাষানটেকের সমাবেশে তারেক রহমান তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন।
সমাবেশ চলাকালে তিনি নিজে মাইক হাতে নিয়ে ভাষানটেক এলাকার বাসিন্দাদের কাছে তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা জানতে চান। এ সময় বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন, নারীদের কর্মসংস্থান, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার দাবি তুলে ধরেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জবাবে তারেক রহমান বলেন, তিনি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বড় হয়েছেন এবং এলাকাবাসীর একজন সন্তান হিসেবে তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনসহ উত্থাপিত সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ক্রীড়াঙ্গনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি দেশের তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে চায়।
মঞ্চে উপস্থিত জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে দেখিয়ে তিনি বলেন, ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হলেও গত এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন খাত ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এসব খাত পুনর্গঠনের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই কেবল জনগণের সমস্যা সঠিকভাবে তুলে ধরতে এবং সমাধান করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে নির্বাচিত তথাকথিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে জনগণ তাদের সমস্যা নিয়ে যেতে পারেনি। তাই শুধু জাতীয় সংসদ নয়—স্থানীয় সরকার পর্যায়েও গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিনিধি নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সমাবেশে তারেক রহমান জনগণের উদ্দেশে বলেন, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। জনগণের নিরাপত্তা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক সমস্যার সমাধানে একটি নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন।
শেষে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সর্বত্র আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানোর আহ্বান জানান।
ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আবদুস সালাম ও প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, জাগপার একাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমানসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: