যারা একসময় বাংলাদেশের অস্তিত্বই মেনে নেয়নি, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে - এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
যারা একসময় বাংলাদেশের অস্তিত্বই মেনে নেয়নি, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিএনপি এখন ওদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে গেছে।
যারা অতীতে বাংলাদেশকে স্বীকারই করেনি, তারাই আজ নানা কূটকৌশলে লিপ্ত।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, একাত্তরে যারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, নারীদের সম্ভ্রমহানি করেছে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতা করেছে-সেই ইতিহাস মানুষ ভুলে যায়নি। তবুও রাজনৈতিক সহাবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতি করতে হলে তা সৎ ও সরল পথে করতে হবে, ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়।
ধর্মের অপব্যবহার করে রাজনীতি করার কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপিকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেই তিনি এসব কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে, তারাই এখন ধর্মকে সামনে রেখে নতুন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অথচ দেশের মানুষ এখন জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি আধুনিক ও কল্যাণমুখী রাজনৈতিক ধারার দিকে তাকিয়ে আছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় চলবে নাকি উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির হাতে চলে যাবে।
তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মে বিশ্বাস করে এবং তার প্রমাণ হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরেন, যিনি সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই ধর্মের নামে রাজনীতিকে তিনি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
নির্বাচন নিয়ে কিছু মহলের সন্দেহ ও হুমকির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আর মাত্র ২৩ দিন বাকি। এখনো কেউ কেউ বলছে নির্বাচন হতে দেবে না। অথচ বাস্তবতা হলো—তাদের ভোটের ভিত্তি প্রায় নেই।
তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত এবং জনগণের রায়ের ওপরই আস্থা রাখে। জনগণ গ্রহণ করলে সরকার গঠন করবে, আর না করলে বিরোধী দলে বসতেও প্রস্তুত—তবে আগাম হুমকি ও গলাবাজির কোনো প্রয়োজন নেই।
তারেক রহমানের ঘোষিত কল্যাণমূলক রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এ লক্ষ্যেই ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মারস কার্ডের মতো উদ্যোগ জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলটির শীর্ষ নেতারা।
এসআর
মন্তব্য করুন: