আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা- দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
তবে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব পাঠিয়েছে এনসিপি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) নাহিদ ইসলামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। পোস্টটি এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলমের পক্ষে প্রকাশ করা হয়।
ওই বক্তব্যে বলা হয়, ‘দেশ সংস্কারের গণভোটে হ্যাঁ বলুন’—এই বার্তা সংবলিত ব্যানার বা বিলবোর্ডগুলো কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি। এনসিপির দাবি, এগুলো কোনোভাবেই শাপলাকলি প্রতীক বা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ নয়।
এনসিপির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, গণভোট সংক্রান্ত প্রচারের জন্য যেসব বিধিবিধান বিদ্যমান রয়েছে, সেগুলোর কোনো লঙ্ঘন ঘটেনি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধির সঙ্গেও এসব কার্যক্রম সাংঘর্ষিক নয়।
এর আগে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে এনসিপি মনোনীত বৈধ প্রার্থী হলেও ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের আগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তার বড় আকারের রঙিন ছবি ও ‘দেশ সংস্কারের গণভোট হ্যাঁ-এর পক্ষে থাকুন’ স্লোগান সংবলিত বিলবোর্ড দৃশ্যমান হয়েছে, যা নির্বাচন আচরণবিধির পরিপন্থি।
নোটিশে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী ভোটের তিন সপ্তাহ আগে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার চালানো নিষিদ্ধ। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব বিলবোর্ড ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং একই দিন সকাল ১১টার মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে বলা হয়।
একই ধরনের অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকেও পৃথক নোটিশ দেয় নির্বাচন কমিশন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা-৮ আসনে তার ছবি, প্রার্থী পরিচিতি ও ‘গণভোটকে হ্যাঁ বলি’ স্লোগান সম্বলিত বিলবোর্ড আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে বলে কমিশনের দৃষ্টিতে এসেছে।
এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না, তা নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।
এসআর
মন্তব্য করুন: