বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই তারা সামনে এগোতে চান এবং ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলের বলরুমে গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি যে কী ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা দেশবাসী ৫ আগস্ট প্রত্যক্ষ করেছে। মতভেদ থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সেই ভিন্নমত কমিয়ে আনতে হবে, যেন তা সংঘাত বা শত্রুতায় রূপ না নেয়।
দেশে ফিরে বিভিন্ন জায়গায় সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তিনি অনুভব করেছেন যে নতুন প্রজন্ম স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও আশার খোঁজ করছে। একই প্রত্যাশা রয়েছে প্রবীণ প্রজন্মের মাঝেও। রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের অনেক আশা থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব না হলেও, যদি রাজনীতি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়, তাহলে জাতিকে সঠিক পথে নেওয়া সম্ভব।
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান বলেন, নিরাপত্তা কেবল নারীদের বিষয় নয়—এটি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় সাত হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমন পরিস্থিতির কারণ নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে গভীরভাবে ভাবতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাংবাদিক নেতারাও অংশ নেন।
উল্লেখ্য, প্রায় দেড় দশক যুক্তরাজ্যে অবস্থানের পর গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান সপরিবারে দেশে ফেরেন। এর কয়েকদিন পর, ৩০ ডিসেম্বর, তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। শোকের মধ্যেই ১০ দিন পর বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই প্রথম কর্মসূচি হিসেবে তিনি গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: