আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল। পেশাগতভাবে তিনি ব্যবসা ও পরামর্শক সেবার সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকার কিছু বেশি হলেও তার বা তার স্ত্রীর নামে কোনো জমি, বাড়ি কিংবা গাড়ি নেই।
এর আগেও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন নুরুল ইসলাম বুলবুল, তবে সে নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
হলফনামার তথ্যমতে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জমা দেওয়ার দিন পর্যন্ত তার মোট আয় দেখানো হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার ৬৬৭ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে আয় ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং পরামর্শক হিসেবে আয় ৬ লাখ ৮২ হাজার ৬৬৭ টাকা।
আর্থিক বিবরণীতে দেখা যায়, তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে প্রায় ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংকের দুটি হিসাবে রয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র বা বন্ডে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ খাতে ১২ লাখ টাকার বেশি অর্থ দেখানো হয়েছে। এছাড়া তার কাছে ২০ ভরি স্বর্ণ, প্রায় ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।
হলফনামায় তার স্ত্রীকে একজন শিক্ষিকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ২২৭ টাকা। তার স্ত্রীর কাছে নগদ প্রায় ১৮ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে ৫ লাখ টাকার বেশি জমা রয়েছে। উপহার হিসেবে পাওয়া ১৪ ভরি স্বর্ণের তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ আছে। এছাড়া প্রার্থীর ছেলের নামে একটি মোটরসাইকেল রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার মেয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা আছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।
হলফনামায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নুরুল ইসলাম বুলবুল কিংবা তার স্ত্রীর নামে কোনো ধরনের স্থাবর সম্পত্তি—যেমন জমি, প্লট, বাড়ি বা গাড়ি—নেই।
আইনগত বিষয়ে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৩টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং তিনি সেখানে জামিনে আছেন। বাকি মামলাগুলোর কিছুতে তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন, কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং কয়েকটিতে পুলিশি তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।
আয়কর সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তিনি ৯ লাখ ৪১ হাজার টাকার বেশি আয় এবং প্রায় ৪৮ লাখ টাকার সম্পদ দেখিয়ে ৫৮ হাজার টাকার বেশি আয়কর পরিশোধ করেছেন। তার স্ত্রী একই অর্থবছরে ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা আয় ও প্রায় ১৭ লাখ টাকার সম্পদ দেখিয়ে ১ হাজার ৩১৯ টাকা আয়কর জমা দিয়েছেন।
এমএসএস ডিগ্রিধারী নুরুল ইসলাম বুলবুলের স্থায়ী ঠিকানা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আঙ্গারিয়াপাড়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি ঢাকার পশ্চিম মেরুল বাড্ডা এলাকায় বসবাস করছেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: