[email protected] সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
২২ পৌষ ১৪৩২

শিক্ষক বাবার চেয়ে ১৮ গুণ বেশি সম্পদ হান্নান মাসউদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ জানুয়ারি ২০২৬ ৮:১৩ এএম

নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনের নির্বাচনী অঙ্গনে এবার এক

অভিনব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই পরিবারের বাবা ও ছেলে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং তার বাবা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক—দুজনই একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সম্পদের দিক থেকে বাবার তুলনায় ছেলের আর্থিক অবস্থান অনেক বেশি শক্তিশালী। হিসাব অনুযায়ী, হান্নান মাসউদের কাছে থাকা নগদ অর্থ বাবার তুলনায় প্রায় ১৮ গুণ বেশি।
হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্যে দেখা গেছে, হান্নান মাসউদের হাতে বর্তমানে নগদ অর্থ রয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। বিপরীতে তার বাবার নগদ টাকার পরিমাণ এক লাখ ৯৩ হাজার টাকা। পেশাগত পরিচয়ে হান্নান মাসউদ নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আলিম (উচ্চমাধ্যমিক সমমান) পাস এবং ঢাকাভিত্তিক ‘ডিজিল্যান্ট গ্লোবাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক।
তার বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার নামে বন্ড ও ঋণপত্র, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন খাতে সম্পদের বিবরণ রয়েছে।
অন্যদিকে, আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের আয়ের প্রধান উৎস কৃষিকাজ। তার হলফনামা অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র মিলিয়ে সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে সীমিত।
হলফনামার তথ্যে আরও জানা যায়, হান্নান মাসউদের বয়স ২৫ বছর এবং তার বাবার বয়স ৬৫ বছর। দুজনই হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের উত্তর সাগরিয়া গ্রামের একই বাড়িতে বসবাস করেন। সেখানে একটি আধাপাকা ঘর নির্মাণাধীন রয়েছে এবং বাড়ির আশপাশে দুটি পুকুর আছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একই আসনে বাবা–ছেলের প্রার্থিতা যেমন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে, তেমনি অল্প বয়সে ছেলের উল্লেখযোগ্য সম্পদের বিষয়টি নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ এটিকে তরুণ নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সম্পদের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক জানান, তিনি হলফনামায় নিজের সম্পদের সঠিক বিবরণই দিয়েছেন এবং এতে কোনো অসত্য তথ্য নেই।
অন্যদিকে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ছাত্রজীবনে টিউশনি, পরবর্তীতে ব্যবসা এবং বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি আয় করেছেন। বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া উপহারও আয়ের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, হলফনামার তথ্য না বুঝে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর আলোচনা ছড়ানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনে নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে আব্দুল হান্নান মাসউদ এনসিপির হয়ে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে এবং তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির হয়ে ‘একতারা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর