বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে
রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকার জিয়া উদ্যানে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে দাফন করা হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
দীর্ঘদিন নানা জটিল রোগে ভোগার পর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮০ বছর। আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র ও চোখের সমস্যায় তিনি দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরার পর নভেম্বর মাসে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর আগে বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী হয়ে ওঠা খালেদা জিয়া টানা ৪৩ বছর বিএনপির নেতৃত্ব দেন। ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেন।
১৯৮১ সালে স্বামী জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে দলকে সংগঠিত করার দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় থেকেই তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলার জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই বলেছেন, রাজনীতিতে মতভেদ থাকলেও ব্যক্তিগত কটূক্তিতে তিনি বিশ্বাস করেন না।
এসআর
মন্তব্য করুন: