অশ্রুসিক্ত নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানিয়েছে দেশের আপামর জনতা।
দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবার চোখেই ছিল শোক আর বেদনার ছাপ।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদভবন এলাকার জিয়া উদ্যানে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।
বুধবার তাঁর জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চল থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন প্রিয় নেত্রীকে এক নজর দেখতে এবং জানাজায় শরিক হতে। কারও হাতে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা, কারও হাতে কালো পতাকা—সবাই নীরবে শ্রদ্ধা জানান এই আপসহীন নেত্রীকে।
জানাজায় অংশ নিতে আসা অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। কেউ কেউ বলেন, রাজনীতির কঠিন সময়ে খালেদা জিয়া ছিলেন সাহস ও দৃঢ়তার প্রতীক। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আপস করেননি, এ কারণেই তিনি মানুষের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য, খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর বিদায়ে সেই অধ্যায়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজায় অংশ নেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানগণ, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা শুরুর অনেক আগেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
জানাজা শেষে সংক্ষিপ্ত মোনাজাতে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তাঁর রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা ও দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করা হয়।
এসআর
মন্তব্য করুন: