[email protected] সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
২২ পৌষ ১৪৩২

এক নজরে খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ৮:২৯ এএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও দেশের

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়
বিএনপির দলীয় নথি অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার জন্মসাল ১৯৪৬। তবে বিভিন্ন জীবনীগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, তার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুঁড়ি জেলার নয়াবস্তি এলাকায়। তার পারিবারিক নাম ছিল খালেদা খানম। শৈশবে পরিবারের কাছে তিনি ‘পুতুল’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।
তার পিতার নাম ইস্কান্দর মজুমদার এবং মাতার নাম বেগম তৈয়বা মজুমদার। পারিবারিকভাবে তিনি তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় তাদের আদি নিবাস।
খালেদা জিয়া দুই সন্তানের জননী—তারেক রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো।
রাজনীতিতে পদচারণা
স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব
খালেদা জিয়া তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন—
১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদে
১৯৯৬ সালে স্বল্প সময়ের জন্য
২০০১ সালে পূর্ণ মেয়াদে
১৯৯১ সালে তার নেতৃত্বেই সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়, যা তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত।
বিরোধী রাজনীতি ও নির্বাচন
১৯৯৬ সালে বিএনপি নির্বাচনে পরাজিত হলে তিনি বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আবার ক্ষমতায় আসেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি পুনরায় বিরোধী দলীয় নেতা হন। পরবর্তী সময়ে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নিজে অংশ নিতে পারেননি—কখনো দলীয় সিদ্ধান্তে বর্জন, কখনো আইনি বাধার কারণে।
আইনি জটিলতা ও কারাবাস
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং ২০০৮ সালে জামিনে মুক্তি পান। পরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি হন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
২০২০ সালে করোনাকালে শর্তসাপেক্ষ মুক্তি পান এবং পরবর্তীতে একাধিকবার সেই মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে রাষ্ট্রপতির আদেশে তিনি পূর্ণ মুক্তি লাভ করেন।
শেষ সময়ের রাজনৈতিক উপস্থিতি
২০১৭ সালে তিনি সর্বশেষ জনসমাবেশে বক্তব্য দেন এবং একই বছর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ করেন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাবাসের আগে তিনি শেষ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।
ব্যক্তিগত জীবন
একসময় জন্মদিনে কেক কাটার বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় এলেও, পরবর্তী বছরগুলোতে নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি এসব আনুষ্ঠানিকতা থেকে বিরত ছিলেন।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর