দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও
জনসংযোগ চালিয়ে আসলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আতিকুর রহমান। জোটগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে শুভকামনা জানিয়ে তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
রোববার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আতিকুর রহমান তার সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বর্তমানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পোস্টে আতিকুর রহমান উল্লেখ করেন, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে প্রায় ১১ মাস ধরে তিনি ঢাকা-১১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলেও তিনি জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে এই আসনে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নির্বাচনী প্রতীকের প্রতি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন তৈরি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক জরিপেও প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি ঢাকা-১১ এলাকার (রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের অংশবিশেষ) সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, অল্প সময়ে তারা তাকে আপন করে নিয়েছেন। পাশাপাশি তার সঙ্গে কাজ করা সহযাত্রীদের ত্যাগ ও পরিশ্রমের কথাও স্মরণ করেন। পোস্টার লাগানো, দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটি ও সাংগঠনিক কাজের জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
আতিকুর রহমান আরও বলেন, জনমত গঠনে ভূমিকা রাখা নারী সহকর্মীদের অবদানও প্রশংসার দাবি রাখে। এ সময়ে তার কোনো কথায় বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংগঠনের সিদ্ধান্তের প্রতি তারা সবাই অনুগত এবং ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোটে সম্প্রতি এলডিপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি যুক্ত হয়। জোটের সমঝোতার ভিত্তিতে ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার পরই আতিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টে তার সমর্থকদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যেখানে অনেকেই তার ত্যাগ ও উদারতার প্রশংসা করেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: