[email protected] শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৭ ফাল্গুন ১৪৩২

বাংলার রাজনীতিতে এসেছে নান্দনিক পরিবর্তন

আয়নুল ইসলাম

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২:১৭ এএম

বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে যেন একটি নতুন সূর্যের উদয় হয়েছে।

দীর্ঘদিনের সংঘাত, বিভাজন ও অস্থিরতার ইতিহাস পেরিয়ে এমন কিছু পরিবর্তন এসেছে, যা একসময় কল্পনাতীত ছিল।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করে।

বর্তমানে রাজনীতি আর সহিংসতা বা প্রতিহিংসার সমার্থক নয়; বরং সংলাপ, সমঝোতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রথমেই উল্লেখ করা যায় শান্তিপূর্ণ ও তুলনামূলকভাবে সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের কথা। অতীতে বাংলাদেশের নির্বাচন মানেই ছিল সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও রক্তপাতের আশঙ্কা। কিন্তু ২০২৪-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে, বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর মতো নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্বের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে।

২০২৬ সালের নির্বাচন উল্লেখযোগ্য সহিংসতা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংস্কার, ডিজিটাল পদ্ধতির সংযোজন (যেমন বডি ক্যামেরা ব্যবহার), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে ভোটাররা ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও এখন আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নয়, বরং নীতিভিত্তিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। এ পরিবর্তন দেশের গণতন্ত্রকে আরও পরিপক্ব করেছে।


আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো নির্বাচনের পর বিজয়ী নেতার পরাজিত নেতার বাসভবনে গিয়ে শুভেচ্ছা জানানো। এটি যেন একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা।

অতীতে বিজয়ী দল প্রায়শই পরাজিতদের প্রতি প্রতিহিংসামূলক আচরণ করত।

কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ী নেতা সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এটি কেবল একটি প্রতীকী অঙ্গভঙ্গি নয়; বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক রূপান্তরের বহিঃপ্রকাশ। এর ফলে দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি আরও দৃঢ় হবে।

এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে, বাংলাদেশের রাজনীতি ধীরে ধীরে প্রতিহিংসা থেকে সম্মানের পথে অগ্রসর হচ্ছে।


সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতি একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তা সংরক্ষণ ও সুসংহত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।


লেখক: শিক্ষার্থী ও রাবিপ্রবি প্রতিনিধি,  প্রতিদিনের বাংলা ডটনেট। 

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর