[email protected] শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের অনুমতি: মানতে হবে ১২ নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ৪:৫২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল আবার শুরু হচ্ছে।

এ সময় পর্যটকদের রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে, তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন। পুরো ভ্রমণব্যবস্থা চলবে সরকারের জারি করা কঠোর ১২ নির্দেশনা মেনে।জা

হাজ চলাচল সূচি ও অনুমোদন

কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় জাহাজ ছেড়ে যাবে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে। পরদিন বিকেল ৩টায় একই জাহাজ কক্সবাজারে ফিরে আসবে। এভাবে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি—দুই মাস পর্যটকরা দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম জানান, ইতোমধ্যে চারটি জাহাজ—

  • এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস
  • এমভি বারো আউলিয়া
  • কেয়ারি সিন্দাবাদ
  • কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন

কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার সরকারের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। নিরাপত্তার কারণে এবার আর টেকনাফ ঘাট থেকে নয়, কক্সবাজার শহর থেকেই পর্যটকবাহী জাহাজ ছেড়ে যাবে।

পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ায় চালু হচ্ছে জাহাজ

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, নভেম্বর মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি না থাকায় পর্যটক আগ্রহ কমে যায় এবং জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। তবে ডিসেম্বর থেকে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকায় পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে, তাই ১ ডিসেম্বর থেকে নিয়মিত ট্রিপ চালু করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে দেওয়া হবে না। এজন্য নুনিয়ারছড়া ও সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে আলাদা তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২২ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে ১২টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর কয়েকটি হলো—

  • বিআইডব্লিউটিএ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবে না।
  • পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল থেকে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। টিকিটে থাকবে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড।
  • নভেম্বর মাসে শুধুমাত্র দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে; রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ।
  • ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপন করা যাবে, তবে ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
  • রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে সংগীত বাজানো বা বারবিকিউ পার্টি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রি এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
  • সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ।
  • পলিথিন বহন করা যাবে না; একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমাতে পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ও পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো আশা করছে, নতুন নির্দেশনা কঠোরভাবে কার্যকর হলে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত থাকবে এবং দ্বীপটি পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল পর্যটনের একটি রোল মডেলে পরিণত  হবে। 

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর