[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১

ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে ধর্ষণের ঘটনা দ্বিগুণের বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৫ ১১:২৬ পিএম

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চলতি মার্চ মাসে দেশে ধর্ষণের সংখ্যা ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

পাশাপাশি বেড়েছে ধর্ষণ ও হত্যার মতো সহিংস অপরাধ। মার্চ মাসে যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণচেষ্টা এবং নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৪২৮টি, যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন ও নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রতি মাসে মানবাধিকার প্রতিবেদন তৈরি করে।

পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ

এমএসএফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী:

  • মার্চ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ১৩২টি, যেখানে ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৫৭টি
  • দলবদ্ধ ধর্ষণের সংখ্যা ফেব্রুয়ারিতে ১৭টি থাকলেও, মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে
  • ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ফেব্রুয়ারিতে ১৯টি, যা মার্চে বেড়ে ৬১টি

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে যথেষ্ট কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগের অভাব, বিচারহীনতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

এ বিষয়ে এমএসএফ-এর নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ধর্ষণ ও অন্যান্য সহিংস অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  1. সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অভাব – দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
  2. পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা – আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সক্রিয় করা হচ্ছে না, ফলে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
  3. স্থানীয় সরকারের অকার্যকারিতা – স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে অপরাধ দমন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

অপরাধ বৃদ্ধির অন্যান্য দিক

এমএসএফ বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শিথিলতার সুযোগে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি সহ নানা অপরাধ বেড়েছে।

এছাড়া:

  • রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৫২টি সংঘর্ষ হয়েছে, যেখানে ১২ জন নিহত ও ৪৪৭ জন আহত হয়েছেন।
  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা ও পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
  • গণপিটুনির ঘটনা ৩৯টি, যেখানে ১৩ জন নিহত ও ৫৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এমএসএফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরাধের লাগাম টানতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং বিচারব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হবে।

অন্যথায় নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা জাতীয় জীবনে আরও গভীর সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর