দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আসায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ৫২টি রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে।
দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মতে, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এজন্য তারা প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার ও একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করেছেন। দাবি পূরণ না হলে এপ্রিলের শেষের দিকে রাজপথে নামার কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।
বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি এবং অন্যান্য নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে ৫২টি রাজনৈতিক দল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিন-তারিখ ও রোডম্যাপ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে, এই প্রক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের ভূমিকা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও তারা প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন নিয়ে কিছু দিকনির্দেশনা দিলেও তাতে স্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ নেই বলে রাজনৈতিক নেতারা মনে করেন। নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, সরকার দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করবে। তা না হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক অনুষ্ঠানে বলেন, "নির্বাচন পিছিয়ে দিতে ষড়যন্ত্র চলছে, কিন্তু কোনো চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না।" বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।"
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা উচিত।" ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, "নির্বাচনের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ থাকলে সংশয় দূর হতে পারে।"
১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, "যদি সরকার দ্রুত নির্বাচন নিয়ে রোডম্যাপ না দেয়, তাহলে আমরা আন্দোলনে নামব।" গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হক বলেন, "সরকারের উচিত অনাস্থা দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া, অন্যথায় রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হবে।"
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, "নির্বাচন-সংক্রান্ত সংস্কার দ্রুত শেষ করে ২০২৫-এর আগেই নির্বাচন করা সম্ভব।" গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক বলেন, "সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে।"
তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, "আমরা বলেছি সংস্কার সাপেক্ষে নির্বাচন প্রয়োজন, তবে গণপরিষদ নির্বাচনও দরকার।" তিনি আরও বলেন, "প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন যে ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে, অর্থাৎ রোডম্যাপ রয়েছে, কিন্তু নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি।"
রাজনৈতিক দলগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং কবে নাগাদ নির্বাচন আয়োজনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।
আপনার অনুরোধ অনুসারে সংবাদটি মডিফাই করা হয়েছে। যদি আরও পরিবর্তন বা সংযোজন চান, জানাতে পারেন!
এসআর
মন্তব্য করুন: