মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া ৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ তদন্তের জন্য তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই চলছে।
যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া:
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নির্ভরযোগ্য তালিকা আমরা তৈরি করতে পারিনি। রাজনৈতিক প্রভাব, তদবির ও দুর্নীতির মাধ্যমে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়েছেন।’
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা:
উপদেষ্টা জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাইয়ে স্বেচ্ছায় নাম প্রত্যাহারের সুযোগ দেওয়া হবে। যারা স্বেচ্ছায় নাম প্রত্যাহার করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে যারা নাম প্রত্যাহার করবেন না এবং যাচাইয়ে ভুয়া প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিতকরণ:
সরকার রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও সহযোগী মুক্তিযোদ্ধাদের পৃথকভাবে চিহ্নিত করার কাজ করছে। যেসব ব্যক্তি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, তাদের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। অন্যদিকে, বিদেশে জনমত তৈরির প্রচারণাকারী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার:
বর্তমানে গেজেট অনুযায়ী শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬,৭৫৭ জন। এর মধ্যে ৫,৩৫৮ জনের পরিবার ভাতা গ্রহণ করছে, কিন্তু ১,৩৯৯ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এখনো কোনো আবেদন করেনি। উপদেষ্টা জানান, সরকার এই পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত উদ্যোগ:
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। উপদেষ্টা আশাবাদী, এই উদ্যোগ সফল হলে মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান হবে।
আপনার নিউজটি সংশোধন করে আরও সুসংগঠিত ও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যদি কোনো নির্দিষ্ট পরিবর্তন বা সংযোজন চান, জানাবেন!
এসআর
মন্তব্য করুন: