[email protected] শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১

বাসস এমডিসহ তিনজনের নামে যুগান্তর সম্পাদকের মানহানি মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৫ ৫:১১ পিএম

ফাইল  ছবি

দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন।

রোববার (২৩ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদের আদালতে এ মামলা করেন তিনি। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আগামী ২৮ এপ্রিল আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন।

মামলায় অভিযুক্ত তিনজন হলেন—
১. মাহবুব মোর্শেদ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, বাসস।
2. খাইরুল আলম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
3. আসাদুজ্জামান আসাদ, যিনি আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবদুল হাই শিকদার অভিযোগ করেছেন, আসামিরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছেন, যা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মানহানির কারণ হয়েছে।

তিনি বলেন, "আমি সৎ ও স্বচ্ছ জীবনযাপন করেছি। কিন্তু আসামিরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি বানোয়াট কবিতা ফেসবুকে পোস্ট করে সেটি আমার লেখা বলে দাবি করেছে। এতে বলা হয়েছে, আমি নাকি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে সমর্থন করে এবং এরশাদের পক্ষে কবিতা লিখেছি। অথচ এটি আদৌ আমার লেখা নয়। পোস্টটি দেখে যে কেউ বুঝবে এটি আমার ভাষার সঙ্গে মেলে না। এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। সামাজিকভাবে যে ক্ষতি হয়েছে, তার সুবিচার চাই।"

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী—

  • ১৭ মার্চ, বাসসের মাহবুব মোর্শেদ তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি মনগড়া কবিতা পোস্ট করেন এবং সেটিকে আবদুল হাই শিকদারের লেখা বলে উল্লেখ করেন।
  • পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, "বাংলাদেশের এক কবি কীভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে অবমাননা করেছেন, তা পড়ে দেখার অনুরোধ জানাই। এত ঘৃণা পোষণ করার পরও এমন কবিরা বিএনপির সুবিধাভোগী হয়ে থাকতে চান!"
  • ১৬ জানুয়ারি, খাইরুল আলম একই কবিতা পোস্ট করে দাবি করেন, এটি আবদুল হাই শিকদার এরশাদকে উপহার দিয়েছিলেন।
  • আসাদুজ্জামান আসাদও পরে ফেসবুকে একই কবিতা পোস্ট করেন এবং লেখেন, "জাতীয়তাবাদী কবি ও নেতা, বর্তমান যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের লেখা এই কবিতা আমি মেসেঞ্জারে পেয়েছি। এটি স্বৈরাচার এরশাদকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।"

বাদীর মতে, এই পোস্টগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে তার সামাজিক ও পেশাগত সুনাম নষ্ট হয়েছে।

তিনি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির হতে হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর