[email protected] শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

তরুণ ভোটারই মূল ফ্যাক্টর

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২৫ ৪:৪৫ এএম
আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৫ ৪:৫১ এএম

ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল বা জোটের জয়-পরাজয়ের অন্যতম নিয়ামক হতে যাচ্ছে তরুণ ভোটাররা।

দেশে মোট ১২ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ ৭ হাজার ভোটারই ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী। যা মোট ভোটারের ২৪ দশমিক ৪২ শতাংশ।

এদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী, যারা আগের নির্বাচনে বিভিন্ন বাধার কারণে ভোট দিতে পারেননি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে এবার তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে সাধারণত ১০ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়। এবার যে দল তরুণদের সমর্থন বেশি পাবে, তারা নির্বাচনে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

বিশেষ করে, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যা তরুণদের ভোটের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

গত এক দশকের একতরফা নির্বাচনে ভোট না দিতে পারা নাগরিকদের মধ্যে এবার ভোট দেওয়ার প্রবল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

এতে ভোটারের উপস্থিতি বাড়বে এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নির্বাচনে তরুণদের মন জয় করতে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে নানা কৌশল নির্ধারণ করেছে।

দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়নে তরুণদের পছন্দ ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে, যার ফলে নতুন ও অপেক্ষাকৃত কম বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, "যদি কোনো রাজনৈতিক দল তরুণদের ৫ শতাংশ ভোট পায়, তবে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী দলের চেয়ে ১০ শতাংশ এগিয়ে যাবে।

তিন কোটির বেশি তরুণ ভোটার একটি বিশাল শক্তি, যা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

তিনি আরও বলেন, "তরুণরা শুধু নির্বাচনে নয়, সামগ্রিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে।

৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে তরুণরাই নেতৃত্ব দিয়েছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণ নেতৃত্বের গুরুত্ব বেড়েছে, যা রাজনৈতিক দলগুলোকেও বিবেচনায় নিতে হবে।"

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ডিসেম্বরের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে।

গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে, যা তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলতে পারে।

পাশাপাশি আরও কিছু নতুন দল গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে তরুণদের ভোট শুধু নির্বাচনের ফল নয়, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক গতিপথও নির্ধারণ করতে পারে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর