মাতৃভাষার গুরুত্ব না বোঝা হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মাতৃভাষার গুরুত্ব ও মানবিক বিকাশ
ড. ইউনূস বলেন, "মানুষের পরিচয়ের মূল ভিত্তি হলো তার মাতৃভাষা। প্রতিটি মানুষকে তার নিজস্ব মাতৃভাষার গুরুত্ব বুঝতে হবে। অন্যথায় থ্রি জিরো তত্ত্ব (Zero Poverty, Zero Unemployment, Zero Net Carbon Emissions) এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়। কাউকে পেছনে রেখে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।"
তিনি আরও বলেন, "মাতৃভাষাই মানুষের অভ্যন্তরীণ অনুভূতি ও ভাব প্রকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। বাংলাদেশ গঠনের ইতিহাসে, বিশেষত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে মাতৃভাষার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাষার মাধ্যমে জাতিগত, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে, যা জাতিগুলোর বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।"
অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে মাতৃভাষার ভূমিকা
ড. ইউনূস বলেন, "একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়তে হলে মাতৃভাষার সুরক্ষা ও বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্য প্রতিটি ভাষা সংরক্ষণ করা জরুরি। কোনো ভাষাকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া উচিত নয়।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউনেস্কো প্রতিটি দেশের মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও প্রসারে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এই প্রচেষ্টা বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
উপসংহার
ড. ইউনূসের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য মাতৃভাষার সুরক্ষা ও প্রসার অপরিহার্য। এটি শুধু ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষায় নয়, বরং বৈশ্বিক উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এসআর
মন্তব্য করুন: