[email protected] সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫
২৩ চৈত্র ১৪৩১

১৫ আগস্টের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন রশিদ ও ফারুক: কর্নেল রাশেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ ৯:১৯ পিএম

ফাইল ছবি

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারে প্রায় সকল সদস্যদের হত্যার ঘটনা, বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত এবং বিতর্কিত ঘটনা।

 এবার, মেজর ডালিমের পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এম রাশেদ চৌধুরী (বীরপ্রতীক), যিনি ওই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

শুক্রবার রাতে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের ইউটিউব চ্যানেলে লাইভ সাক্ষাৎকারে রাশেদ চৌধুরী জানান, ১৫ আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনার নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারুক ও মেজর রশিদ। তাদের দায়িত্ব ছিল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের একত্রিত করা। শেখ মুজিবের বাসা, সেরনিয়াবাত, রেডিও স্টেশন ও শেখ মণির বাসাকে টার্গেট করে অপারেশনটি পরিচালিত হয়। মেজর ডালিম রেডিও স্টেশন এবং সেরনিয়াবাতের বাসার দায়িত্বে ছিলেন, আর রাশেদ চৌধুরী ছিলেন ডালিমের অধীনে রেডিও স্টেশনে।

রাশেদ চৌধুরী জানান, তিনি পরিকল্পনায় সরাসরি অংশ না নিলেও, সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে গোপনে আলোচনা চলছিল। তিনি বলেন, ১৯৭২-৭৫ সালের দুর্ভিক্ষ ও লুটপাটের পরিস্থিতি নিয়ে তরুণ অফিসারদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছিল এবং গোপনে পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছিল। তবে বাকশাল গঠনের পর তাদের চিন্তাভাবনা আরও গভীর হয়।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর তারা জানতেন না শেখ মুজিবের ভাগ্য কী হবে। প্রথম পরিকল্পনা ছিল তাকে গ্রেপ্তার করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সামরিক আদালতে বিচার করা। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ভোরের দিকে রেডিও স্টেশন টেকওভার করা হয় এবং ভাষণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। মেজর ডালিম এসে তাকে বলেছিলেন, ‘উই হ্যাভ ডান ইট।’

রাশেদ চৌধুরী জানান, তিনি সরাসরি শেখ মুজিবের বাসভবনে কী ঘটেছিল তা দেখেননি, তবে পরবর্তীতে মেজর বজলুল হুদার কাছ থেকে জানতে পেরেছিলেন যে শেখ কামাল ও তার মা সুলতানা গোলাগুলি শুরু করেন। এসময় একজন সিপাহি নিহত হলে, বাকিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেখ কামাল ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। মুজিবের বাসায় ঢুকলে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে, এবং একপর্যায়ে শেখ মুজিব গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

শেখ রাসেল কেন নিহত হন, জানতে চাইলে রাশেদ চৌধুরী বলেন, শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর ফরেনসিক তদন্তে হয়তো তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যেত। তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিব ১৯৭২ সালে দেশের স্বাধীনতার পর বিপুল জনসমর্থন পেলেও, পরে তার শাসনব্যবস্থা স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে, যা অনেকের কাছে আশ্চর্যজনক ছিল।

এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গভীর কষ্টকর এবং বিতর্কিত অধ্যায়, যার প্রেক্ষিতে দেশটির রাজনীতি এবং সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে একটি অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর