প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যা ও গুমের অভিযোগের বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকার প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে (পিআইবি) কৃষি সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ গুম হয়েছেন এবং প্রায় দুই হাজার যুবক হত্যার শিকার হয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।”
প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য দুটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। তবে চূড়ান্ত তারিখ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক করা হবে।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার গুজব উড়িয়ে দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এমন কোনো ইচ্ছা নেই। রাজনৈতিক দলগুলোই তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করবে। তবে আওয়ামী লীগ মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের মাধ্যমে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন শফিকুল আলম। তিনি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বাজার সিন্ডিকেট প্রতিহত করার পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করেন।
তবে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “খাদ্য উৎপাদনের ভুল তথ্য দিয়ে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা হয়েছিল। সরকার অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদনের দাবি করলেও বাংলাদেশ এক কোটি ২৫ লাখ টন চাল আমদানি করেছে।”
তিনি বলেন, “১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি যেন আর না ঘটে, সেজন্য তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
শফিকুল আলম আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনৈতিক তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। “অতীতে মুদ্রাস্ফীতি ও জিডিপির পরিসংখ্যানে গড়মিলের কারণে অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছিল। সঠিক তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে একটি টেকসই অর্থনীতি ও কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে,” তিনি বলেন।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, “বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম। মহার্ঘ ভাতা এই সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আয় বৈষম্য হ্রাস এবং ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।”
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “টেকসই কৃষি ও অর্থনীতি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণ করা হবে।”
এসআর
মন্তব্য করুন: