[email protected] শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
১১ বৈশাখ ১৪৩৩

ঝুলে আছে বিচার, কাটছে না দীর্ঘসূত্রতা

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪৮ এএম

সংগৃহীত ছবি

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও অমলিন। বাংলাদেশের ইতিহাসের বৃহত্তম এই শিল্প দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক এবং আহত হয়েছিলেন আরও প্রায় দুই হাজার

 মানুষ। আজ সেই ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পূর্ণ হলেও বিচারের বাণী আজও নিভৃতে কাঁদছে।

​ঘটনার পর দায়ের করা ৬টি মামলার বর্তমান অবস্থা ও মূল তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

​নিহত ও আহত: ১,১৩৬ জন নিহত এবং প্রায় ২,০০০ শ্রমিক আহত হন।

​মামলার সংখ্যা: মোট ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল (হত্যা, ইমারত নির্মাণ বিধি লঙ্ঘন, দুর্নীতি, অস্ত্র এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন)।

​নিষ্পত্তি হওয়া মামলা: ৬টির মধ্যে কেবল দুদকের করা সম্পদের তথ্য গোপন সংক্রান্ত একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এতে ভবন মালিক সোহেল রানা ও তার মাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 সিআইডি ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলেও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়নি। ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৪৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ৩ জন আসামি মারা যাওয়ায় বর্তমানে আসামি ৩৮ জন।

রাজউকের এই মামলায় ১৩০ জন সাক্ষীর মধ্যে শুনানি আশানুরূপ এগোয়নি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

৬ তলার অনুমোদন নিয়ে ৮ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগে দুদকের এই মামলাটি যুক্তিতর্ক পর্যায়ে রয়েছে। ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

​অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইন: এই দুই মামলার একমাত্র আসামি সোহেল রানা। বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে থাকলেও সাক্ষীদের অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ এগোচ্ছে না।

​কারাবন্দী: ৪১ জন আসামির মধ্যে ভবন মালিক সোহেল রানা ছাড়া বাকি ২৫ জন জামিনে আছেন এবং ১২ জন পলাতক। সোহেল রানা প্রায় ১৩ বছর ধরে বিনা বিচারে কারাগারে আছেন বলে দাবি তার আইনজীবীর।

তৎকালীন রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং উচ্চ আদালতে আসামিপক্ষের স্থগিতাদেশের কারণে দীর্ঘ ৬ বছর বিচার বন্ধ ছিল। তবে গত দেড় বছরে ১০০-র বেশি সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং এই বছরের মধ্যেই হত্যা মামলার রায়ের আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

​রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার শেষ না হওয়াকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও আইনি দীর্ঘসূত্রতার বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মী ও শ্রমিক নেতারা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর