[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
২ বৈশাখ ১৪৩৩

সংসদে আলোচনা

জিয়া পরিবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৮ এএম

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন সংসদ সদস্য বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়া পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

তাদের মতে, দেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে এই পরিবারের সদস্যরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন, ফলে তাদের ইতিহাস থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অংশ নিয়ে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, দেশের রাজনৈতিক বাঁকবদলের বিভিন্ন সময়ে—১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনসহ নানা ঘটনায় জিয়া পরিবারের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।


তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিহাসে তাদের অবদান অস্বীকার করা হলে তা দেশের সামগ্রিক ইতিহাসকেই দুর্বল করে তুলবে। একইসঙ্গে রাজনীতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্মকে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; বরং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে এই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।


বিরোধী দলের প্রতি সংসদে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গুজবের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।


উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। কার্যউপদেষ্টা কমিটি এ ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে।

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহম্মেদ অপু তা সমর্থন করেন।
আলোচনায় মোট ১৮ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।

তারা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন চাহিদা তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়েও বক্তব্য দেন।


মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা সম্ভব।


অন্যদিকে, বিএনপির সংসদ সদস্য ফখরুদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতির ভাষণকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, এতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের পাশাপাশি অতীত সময়ের কিছু বিতর্কিত ঘটনার বিষয়ও উঠে এসেছে।


এ ছাড়া বিভিন্ন দল ও আসনের সংসদ সদস্যরা আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।


আলোচনার শেষাংশে সংসদ সদস্যরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এসআর

সম্পর্কিত খবর