ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে একাত্তরের ঘাতক-দালাল ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত রাজাকারদের নিয়ে শোক প্রস্তাব উত্থাপনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ৪১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় সংসদের নেতা ছিলেন।
ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে বহু মুক্তিযোদ্ধা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন—যা দেশের জন্য গৌরবের বিষয়।
তবে দুঃখজনকভাবে বর্তমান সংসদে সেই ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
বরং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামী ও চিহ্নিত রাজাকারদের সংসদে উপস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সদ্য শপথ নেওয়া বিএনপি সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জন্য অপমানজনক।
সংসদের অধিবেশনে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রতি শোক প্রস্তাব উত্থাপনকে তারা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিদাতারা বলেন, ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে সেই সংসদেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননার শামিল।
এ ধরনের পদক্ষেপ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ভিত্তিকে ক্ষুণ্ন করতে পারে বলেও তারা মনে করেন।
তারা আরও বলেন, জাতীয় সংসদে এমন উদ্যোগ ইতিহাসের বিতর্কিত অধ্যায়গুলোকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা পাঠায়। তাই সংসদের কার্যবিবরণী থেকে সংশ্লিষ্ট শোক প্রস্তাবটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সংসদসহ কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, অধ্যাপক আবু ইউসুফ, কবি হেনরী স্বপন, কবি শাহেদ কায়েস, কবি মানিক বৈরাগী, গবেষক ও সাংবাদিক এনায়েত কবীর, কবি রইস মুকুল, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহাদাত রাসেল, লেখক পীযূষ কান্তি বড়ুয়া, কবি সঞ্জীব পুরোহিতসহ ৪১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
এসআর
মন্তব্য করুন: