রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের নারীপ্রধান
পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সুবিধাবঞ্চিত নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে সরাসরি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
ভাতার পরিমাণ: নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার মাসিক ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে।
প্রদান পদ্ধতি: সুবিধাভোগীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি ঘরে বসেই এই টাকা পাবেন।
পরীক্ষামূলক পর্যায়: প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়নের নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্ডে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বাজেট ও আওতা: আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য এই প্রকল্পে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩৭,৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দারিদ্র্য সূচক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত হকদারদের নির্বাচন করা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে পরিবারগুলো এই ভাতার যোগ্য হবে না:
১. পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে বা পেনশনভোগী হলে।
২. নারী গৃহপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী হলে।
৩. পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স, গাড়ি, এসি বা ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকলে।
৪. নারী গৃহপ্রধান নিজে অন্য কোনো সরকারি ভাতা ভোগ করলে সেটি বাতিল বলে গণ্য হবে (তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের নিজস্ব ভাতা চালু রাখতে পারবেন)।
সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এই ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক দল বিবেচনা করা হচ্ছে না। এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে হতদরিদ্র পুরুষপ্রধান পরিবারগুলোকেও এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: