মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় দেশে সম্ভাব্য সংকট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী Iqbal Hasan Mahmud Tuku।
শনিবার (৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman–কে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে। কেউ যদি কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করে বা তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে আগামীকাল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ৯ মার্চ তেলবাহী দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছাবে, যা বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।
এদিকে রাজধানীর বেশ কিছু ফিলিং স্টেশনে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল সাময়িকভাবে কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যেসব পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অনেক জায়গায় যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পাম্পসংশ্লিষ্টদের মতে, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনেকেই অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করায় সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
এর আগে Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি) জ্বালানি তেলের দৈনিক সরবরাহে একটি সীমা নির্ধারণ করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন দেওয়া যাবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে ১০ লিটার, এসইউভি ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত দেওয়া হবে।
এছাড়া পিকআপ বা স্থানীয় বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনারবাহী ট্রাকে সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত তেল সরবরাহের নিয়ম চালু করা হয়েছে।
বিপিসি জানিয়েছে, দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য সংকট নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর ফলে কিছু ডিলার ও ভোক্তা অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
এ পরিস্থিতিতে মন্ত্রী ও বিপিসি উভয়েই জনগণকে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কে না ভুগে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী রোববার (৯ মার্চ) থেকে এই নতুন সরবরাহ নীতিমালা সারা দেশে কার্যকর হবে।
এসআর
মন্তব্য করুন: