[email protected] শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬ ৪:৩৮ এএম

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ।

১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রমনার রেসকোর্স ময়দানে—বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে -এক স্মরণীয় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

লাখো মানুষের উপস্থিতিতে দেওয়া সেই ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

ঐ ভাষণে বাঙালির দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয় এবং দেশের মানুষের করণীয় সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন।

৭ মার্চের ভাষণের পর দেশজুড়ে স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে বাঙালি জাতি। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে সেই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ পায়।


১৯৭১ সালের মার্চ মাসজুড়ে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তাই এই মাসকে বাঙালির আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার পথচলার এক স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়।


দীর্ঘদিন ধরে ৭ মার্চের ভাষণ ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও ২০২০ সালের আগে দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃত ছিল না।

পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ৭ মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষণার নির্দেশ দেয় এবং এক মাসের মধ্যে গেজেট প্রকাশের কথা বলা হয়। একই সঙ্গে মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।


এ বিষয়ে ২০১৭ সালে আদালতে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। একই বছর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ বা বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পরে ২০২০ সালের অক্টোবরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত তালিকায় ‘ক’ শ্রেণির দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ২০২১ সাল থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় পরিসরে দিবসটি পালন করা শুরু হয়। তবে গত বছর ও এ বছর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দিনটি সামনে এসেছে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।


চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর একই বছরের ১৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার ৭ মার্চসহ মোট আটটি জাতীয় দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর