[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

পিলখানার ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তার ঘাটতি স্পষ্ট: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৯:৩৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ২০০৯ সালের পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করার একটি অপপ্রয়াস।

এই ঘটনায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকাঠামোর দুর্বলতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেছে। সরকারের লক্ষ্য, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা।


বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস হলে শহীদ সেনা পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা দেওয়া হয়।


লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। পিলখানার ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার ঘাটতি প্রকাশ করেছে, তাই সরকার এই ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের কল্যাণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।


প্রধানমন্ত্রী শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে বলেন, মাহে রমজানের এই সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, ৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী ছাত্র-জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। তিনি ২০০৯ সালের পিলখানায় নিহত ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।


তিনি বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতিও যেন স্মৃতির ভারে নীরব হয়ে যায়। দীর্ঘ ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এই ঘটনাকে ভুলা যায়নি। প্রতিটি শহীদ একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায় এবং একটি অসমাপ্ত স্বপ্নের গল্প।


প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে ফিরে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করে তিনি পরিবারের দুর্দান্ত সংগ্রাম এবং বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণা উপলব্ধি করেছেন। তিনি বলেন, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সময় তৎকালীন ইপিআরের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সংস্কার কাজ শুরু করেন।


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আধুনিক ও সুসংহত করা হবে, সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় দায়িত্ব পালন করবে। ২০০৯ সালের পিলখানার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তিনি মাহে রমজানের শিক্ষা অনুযায়ী সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং দেশের জন্য দায়িত্বশীলতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সঙ্গে ইফতার

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর