রাজধানীর প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (রহ.) তৃতীয় টার্মিনাল শিগগিরই চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুত উদ্বোধনের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রকল্পের পটভূমি ও ব্যয়-তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর একনেকে অনুমোদন পায়।
শুরুতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা।
পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়।
২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় অংশের অর্থায়ন করছে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা।
বর্তমানে বিমানবন্দরে দুটি টার্মিনাল রয়েছে, যার সম্মিলিত আয়তন প্রায় এক লাখ বর্গমিটার। নতুন টার্মিনালটির আয়তন হবে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার—অর্থাৎ আগের দুই টার্মিনালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
কারা নির্মাণ করছে - ঢাকা কনসোর্টিয়ামের অধীনে জাপানের মিৎসুবিশি ও ফুজিটা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং যৌথভাবে এই টার্মিনাল নির্মাণ করছে।
টার্মিনালের কাঠামো ও অবকাঠামোগত সুবিধা
উড়োজাহাজ পার্কিং ও ট্যাক্সিওয়ে-
মোট ৩৭টি অ্যাপ্রোন পার্কিং—একসঙ্গে ৩৭টি উড়োজাহাজ রাখা যাবে
বর্তমানে থাকা ৪টি ট্যাক্সিওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে ২টি হাই-স্পিড ট্যাক্সিওয়ে - বোর্ডিং ও চেক-ইন সুবিধা
মোট ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ (প্রথম ধাপে চালু হবে ১২টি)
মোট ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, এর মধ্যে ১৫টি সেলফ-সার্ভিস
ডিপারচার ইমিগ্রেশনে ৬৬টি কাউন্টার, যার মধ্যে ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল-
আগমন সুবিধা- আগমনের জন্য ৫৯টি পাসপোর্ট কাউন্টার
১৯টি অ্যারাইভাল চেক-ইন কাউন্টার
১৬টি ব্যাগেজ বেল্ট, গাড়ি পার্কিং-
টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে একটি মাল্টিলেভেল কার পার্কিং ভবন, যেখানে ১,৩৫০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকবে।
তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবা, দ্রুত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া, আধুনিক বোর্ডিং ব্যবস্থা এবং বাড়তি পার্কিং সুবিধার মাধ্যমে দেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানের এই অবকাঠামো চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা ও সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। প্রসঙ্গত, এই টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এসআর
মন্তব্য করুন: