ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা।
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন এমন কয়েকজন নেতা, যাদের পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। ফলে রাজনীতির উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় লাভ করেন। তিনি সাবেক ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার সন্তান।
খোকা একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন এবং খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবার ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরের অংশবিশেষ) আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার বাবা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০০১ সালে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। নতুন সরকারে মীর হেলাল পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী হয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কেএম ওবায়দুর রহমানের কন্যা।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা শামা ওবায়েদ এবার প্রথমবারের মতো সংসদে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
ময়মনসিংহ-৯ আসনে জয় পাওয়া ইয়াসের খান চৌধুরীও নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।
তার বাবা মো. আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন এবং পরিবারের আরও সদস্য জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ইয়াসের খান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসন থেকে নির্বাচিত ডা. এম এ মুহিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তার বাবা অধ্যাপক ডা. এম এ মতিন ছিলেন পাঁচবারের সংসদ সদস্য এবং জিয়াউর রহমান সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বাবার রাজনৈতিক ঐতিহ্য অনুসরণ করেই প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন ডা. মুহিত।
নতুন মন্ত্রিসভায় এই তরুণ ও নবীন মুখগুলোর অন্তর্ভুক্তি বিএনপির রাজনীতিতে প্রজন্মান্তরের ধারাবাহিকতা তুলে ধরেছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন।
একই সঙ্গে পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয় নিয়েও আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
এসআর
মন্তব্য করুন: