অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ করার পরও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ Muhammad Yunus আপাতত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই অবস্থান করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও তিনি সেখানেই রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নিয়ম অনুযায়ী আরও তিন মাস যমুনায় থাকার সুযোগ থাকলেও তিনি সেটি দীর্ঘায়িত করতে আগ্রহী নন। এ প্রেক্ষাপটে গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি দল সম্প্রতি যমুনা পরিদর্শন করেছে।
ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি পরিবারকে সময় দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গোছাতে ব্যস্ত রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক মাসের মধ্যে কিংবা ঈদের পর তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরে যেতে পারেন। যদিও চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তিনি যমুনায় বসবাস শুরু করেন। দায়িত্ব শেষের পর এখন তিনি ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও সাংগঠনিক কাজ গুছিয়ে নিচ্ছেন। পাশাপাশি অসুস্থ স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সময় কাটাচ্ছেন।
তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত ‘থ্রি জিরো’—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণের—ভাবনা ঘিরেই নতুন কিছু উদ্যোগের চিন্তা করছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি।
বিদেশ থেকেও বিভিন্ন সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সংক্রান্ত সাবেক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এ বিষয়ে তাকে সহায়তা করছেন। কোথাও সরাসরি উপস্থিত হয়ে, আবার কোথাও ভার্চুয়ালি অংশ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বর্তমানে তার দৈনন্দিন ব্যস্ততা আগের তুলনায় কম। সকালে তিনি যমুনা প্রাঙ্গণে হাঁটাহাঁটি করেন, এরপর নাশতা শেষে সকাল ১০টার দিকে কাজ শুরু করেন।
দেখা করতে আগ্রহীদের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। আগে রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে অনেকের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি বলে এখন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন—কেউ অভিজ্ঞতা জানতে, কেউ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে।
আগামী মাসে পাঁচ দিনের সফরে জাপান যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। সফরের বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
এদিকে দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই তিনি তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের অন্য উপদেষ্টা ও সমমর্যাদার অনেকেও ইতোমধ্যে তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, দায়িত্বমুক্ত জীবনে ড. ইউনূস এখন পরিবার, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ—এই তিন দিকেই সমান মনোযোগ দিচ্ছেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: