[email protected] শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৭ ফাল্গুন ১৪৩২

চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে ‘নতুন সূচনার’ ইঙ্গিত: প্রটোকল কমালেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই কয়েকটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমানো, প্রটোকল হ্রাস এবং সপ্তাহে ছয় দিন অফিস করার ঘোষণা প্রশাসনে নতুন বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, তিনি চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় যাতায়াত করছেন।

আগে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর বহরে এক ডজনের বেশি গাড়ি থাকত, সেটি কমিয়ে চারটিতে আনা হয়েছে। এছাড়া চলাচলের সময় সড়কের দুই পাশে অতিরিক্ত পুলিশি প্রহরার প্রচলিত ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে।


আরও একটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হলো—নিয়মিত চলাচলে গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার না করা। কেবল রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে পতাকা ব্যবহৃত হবে।

ভিআইপি চলাচলের কারণে নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক অধিকাংশ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে আয়োজনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
শনিবারেও অফিস- 
প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে সপ্তাহে ছয় দিন অফিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় খোলা থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে নীতি-নির্ধারণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুততা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংসদ সদস্যদের সুবিধা কমানোর সিদ্ধান্ত-
সরকার গঠনের পর সংসদীয় দলের বৈঠকে দলীয় সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লটসহ কিছু বিশেষ সুবিধা না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সরকারি ব্যয় সংকোচন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি-
প্রথম দিকের বৈঠকগুলোতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো—ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও খাল পুনঃখনন—নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প সময়ে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।


১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা- 
সরকারের পক্ষ থেকে শিগগিরই ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে বলে মন্ত্রিসভার বৈঠক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে। রমজানকালে বাজার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যম কমিশন সংক্রান্ত উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ- 
দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিসরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষণাগুলোর বাস্তবায়ন ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে এবং সুশাসনের ভিত্তি আরও মজবুত হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর