দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সকাল ১০টার পর রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ সংক্রান্ত গণভোটে অংশ নেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট স্থগিত থাকায় ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
সারা দেশে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮১ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। দলীয় প্রার্থীর সংখ্যায় বিএনপি এগিয়ে—‘ধানের শীষ’ প্রতীকে তাদের ২৯১ জন প্রার্থী মাঠে আছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ২৫৮ জন, জামায়াত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ২২৯ জন এবং জাতীয় পার্টি ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে ১৯৮ জন প্রার্থী দিয়েছে। নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ৩২ জন প্রার্থী নিয়ে অংশ নিচ্ছে। স্বতন্ত্রদের মধ্যে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে রয়েছেন ৭৬ জন।
ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশন ৮১টি সংস্থার মাধ্যমে ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশীয় পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে। এ ছাড়া ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।
দেশজুড়ে মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে, যেখানে বুথের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। এর মধ্যে পুরুষ বুথ প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার এবং নারী বুথ প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার। ঢাকা বিভাগে কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গাজীপুর-২ আসনকে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী দায়িত্বে রয়েছেন ৮ লাখের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। এর মধ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।
এবার ভোটারদের দুটি পৃথক ব্যালট পেপার দেওয়া হচ্ছে—একটি সংসদীয় আসনের প্রার্থী নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি সংবিধানের প্রস্তাবিত পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মোট ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, র্যাব ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী অপরাধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক হাকিমদের সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এসআর
মন্তব্য করুন: