[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৯ মাঘ ১৪৩২

কাঙ্খিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ

জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১:৫৪ এএম

সংগৃহীত ছবি

দেশের বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে গণভোটও হওয়ায় এবারের আয়োজনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মিলিয়ে প্রায় নয় লাখ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সাত লাখের বেশি সদস্য পুলিশ ও আনসার বাহিনীর, যারা কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় মূল দায়িত্বে রয়েছেন।


সেনাবাহিনীর এক লাখ তিন হাজার সদস্য বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন আছেন। পাশাপাশি পাঁচ জেলার ১৭টি আসনে বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার এবং বিমানবাহিনীর তিন হাজার ৫০০ সদস্য। সীমান্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড।


নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অনিয়ম ও সহিংসতা প্রতিরোধে ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছেন। এছাড়া আকাশপথে নজরদারির জন্য ৫০০টির বেশি ড্রোন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে ভোট একদিকে উৎসবের আবহ তৈরি করলেও, অন্যদিকে সহিংসতা ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগও রয়েছে।

গত ১২টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে চারটিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও বাকি আটটিতে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক দেখা যায়।


নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি থেকে এত বড় আয়োজন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে তিনি আরও ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইসি সূত্র জানায়, শুধু বাহিনী মোতায়েন নয়—যেকোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি অবনতি হলে সহায়তায় প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিসও।
এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। মোট আসন ২৯৯টি; শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে ভোট স্থগিত রয়েছে।


মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন—দলীয় ৬৩ ও স্বতন্ত্র ২০ জন। পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৯৪৫ জন—দলীয় ১ হাজার ৬৯২ ও স্বতন্ত্র ২৫৩ জন।


ভোটার সংখ্যা আগের নির্বাচনের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। সে কারণে ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দিনশেষে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশা করছে নির্বাচন কমিশন।


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান।

সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর