[email protected] বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৮ মাঘ ১৪৩২

বিআইডিডির জরিপ

ভোট বেশি পড়লে বিএনপি, কম পড়লে জামায়াত সুফল পাবে

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১:৫১ এএম

সংগৃহীত ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হারই সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে- এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইডিডি)।

সংস্থাটির সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভোটের হার বেশি হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে, আর ভোটার উপস্থিতি কমে গেলে লাভবান হতে পারে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট।

বিআইডিডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদি মোট ভোটার উপস্থিতি ৬৫ থেকে ৬৮ শতাংশের মধ্যে থাকে, তাহলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে।

তবে ভোটের হার যদি ৫৩ থেকে ৫৮ শতাংশে নেমে আসে এবং সংগঠিত ও আদর্শভিত্তিক ভোটারদের অংশগ্রহণ বেশি হয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী জোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।


সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চতুর্থ দফার বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে একই বিষয়ে তিন দফা পূর্বাভাস প্রকাশ করেছিল সংস্থাটি।

সর্বশেষ প্রতিবেদনে সম্ভাব্য ভোটার উপস্থিতি, দলভিত্তিক আসন বণ্টন, ভোটের হারের ওঠানামায় ফলাফলের পরিবর্তন এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে গড় ভোটার উপস্থিতি ৫৮ থেকে ৬৭ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। সম্ভাব্য আসন বণ্টনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ১৪৭ থেকে ১৮৮টি আসন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা হতে পারে ৭৩ থেকে ১১০টি। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১ থেকে ৩টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২১ থেকে ২৮টি এবং অন্যান্য দল মিলিয়ে ৪ থেকে ৬টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।


বিআইডিডি জানিয়েছে, এই পূর্বাভাস তৈরিতে প্রচলিত জনমত জরিপের পাশাপাশি আধুনিক গবেষণাপদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভোটার উপস্থিতি ও দলভিত্তিক ভোটের প্রবণতা নিরূপণ করা হয়।

পাশাপাশি ২০২৪ সালের আগস্টের পর বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপ যুক্ত করে মেশিন লার্নিং মডেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।


বিশ্লেষণে ভোটদানের সময়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোট দিতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। এতে ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


পূর্বাভাস অনুযায়ী, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে মোট ভোটারের প্রায় ৩৩ থেকে ৪২ শতাংশ ভোট দিতে না পারার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।

তবে নতুন ও শিক্ষিত তরুণ ভোটাররা যদি গড়ে ৭৬ সেকেন্ডের মধ্যে ভোট সম্পন্ন করতে পারেন, তাহলে সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতি ২ দশমিক ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় ৬০টি দলের মধ্যে ৭ থেকে ১০টি দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব পেতে পারে।

একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।

নির্বাচনে ২ থেকে ৩ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন বলে ধারণা দেওয়া হলেও তাঁদের জয়ের সম্ভাবনাকে মাঝারি পর্যায়ের হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।


এ ছাড়া ভোটের দিন সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে ভোটার, পোলিং এজেন্ট এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিআইডিডি।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বাড়ানোর চেষ্টা থেকে সংসদীয় নির্বাচনে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


কিছু রাজনৈতিক দল কৌশলগতভাবে নিজস্ব ভোটারদের ধীরে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সময়ক্ষেপণের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোটাররা ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

পাশাপাশি কোর ভোটব্যাংক রক্ষাকে কেন্দ্র করে জোটগুলোর মধ্যে সংঘাত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার ঝুঁকির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর