আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সাংবাদিক এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ফলাফল বুথ পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন বহন করলে তাদের কোনো ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হবে না।
এর আগে ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের চারশ গজ এলাকার মধ্যে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে নির্বাচন কমিশন একটি নির্দেশনা জারি করে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনা রোববার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে শুধুমাত্র তিন শ্রেণির কর্মকর্তা মোবাইল ফোন বহনের অনুমতি পাবেন। তারা হলেন— সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা এবং ‘ইলেকশন সিকিউরিটি ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত দুইজন আনসার সদস্য।
এ সংক্রান্ত চিঠির মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটগ্রহণের দিন সাংবাদিক ও প্রার্থীদের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ হওয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। এর প্রেক্ষিতে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) সোমবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানায়।
আরএফইডির সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের কাজ করতে মোবাইল ফোন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশন সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেছে এবং তাদের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন বহনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলেও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ ও বিভিন্ন মহলের সমালোচনার পর নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: