[email protected] শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২ ফাল্গুন ১৪৩২

নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৭:৩৪ এএম

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা

 কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা এবং এর সঠিক ইতিহাস চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


​প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের মূল পয়েন্টসমূহ:
​অনুপ্রেরণার উৎস: মুক্তিযুদ্ধ যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকে। নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে এই দেশ কীভাবে স্বাধীন হয়েছে, কারণ ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রতিকূলতার (যুদ্ধ) মোকাবিলা করতে হবে।


​প্রতিষ্ঠান রক্ষা: অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে মুক্তিযোদ্ধা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে 'খেলার পুতুল' বানানো হয়েছিল। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো এগুলোকে প্রকৃত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে প্রকৃতদের শ্রদ্ধা ফিরিয়ে দেওয়া।


​ইতিহাস সংরক্ষণ: আর কয়েক বছর পর সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের পাওয়া যাবে না, তাই তাদের স্মৃতি ও বীরত্বগাঁথা ধরে রাখতে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন।


​সংস্কার ও গণভোট: সংবিধান সংস্কার এবং আসন্ন গণভোটকে দেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংস্কার না হলে জাতি আবার আগের অচলাবস্থায় ফিরে যাবে।


​বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পর্যবেক্ষণ:
​ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার: গত ১৬ বছরে 'মুক্তিযোদ্ধা' পরিচয়টি রাজনৈতিক কারণে বিতর্কিত করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের হারানো সম্মান ফিরে পাচ্ছেন।


​একাত্তর ও চব্বিশের মেলবন্ধন: বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, একাত্তরের তরুণদের মতো চব্বিশের তরুণরাও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছে। এই দুই প্রজন্মের চেতনা একই সূত্রে গাঁথা।


​গণভোটের সমর্থন: মুক্তিযোদ্ধারা ব্যক্তিগতভাবে গণভোটে সংস্কারের পক্ষে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং ফ্যাসিবাদের চিরস্থায়ী অবসানে 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
​ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:


​মুক্তিযোদ্ধা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো দেশব্যাপী স্মৃতিস্মারক সংরক্ষণ, সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং একটি স্বচ্ছ কর্মপন্থা তৈরির কাজ শুরু করেছে, যেন পরবর্তী সরকারগুলোও এই ধারা বজায় রাখতে পারে।


​ ড. ইউনূস স্পষ্ট করেছেন যে তিনি স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকতে আসেননি, তবে নাগরিক হিসেবে দেশের স্থায়ী মঙ্গলের জন্য কাজ করে যাবেন।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর