[email protected] সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৬ মাঘ ১৪৩২

বৈশ্বিক শ্রমবাজারে ভাবমূর্তি রক্ষায় ভুয়া সনদ রোধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৭:১৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম বজায় রাখতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের জাল ও ভুয়া সনদ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)-এর গভর্নিং বডির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
২০১৮ সালে গঠিত এনএসডিএর গভর্নিং বডির এটি ছিল দ্বিতীয় সভা। এর আগে ২০২২ সালে সংস্থাটির প্রথম গভর্নিং বডি সভা অনুষ্ঠিত হয়।


সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশি ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এনএসডিএ একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করেছে। বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই উদ্যোগের গুরুত্বও বেড়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা থাকলেও প্রশিক্ষণ সনদে জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে কর্মীদের ওপর নিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল নষ্ট হয়ে যাবে।


চাকরিদাতাদের বিশ্বাস ধরে রাখার ওপর জোর দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে বিদেশি নিয়োগকারীরা নিশ্চিন্তে বলতে পারেন—বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মীরা দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য।


তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনএসডিএর উদ্যোগে সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালু হলে জালিয়াতি রোধে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের তরুণ সমাজ অত্যন্ত সৃজনশীল ও সম্ভাবনাময়। তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেন স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


সভায় আগের সভার সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি সমন্বিত ‘দক্ষতা ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এই ইকোসিস্টেম পুরোপুরি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সনদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে, সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং শিল্পখাতে শ্রমিকের চাহিদা নিরূপণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে কেন্দ্রীয়ভাবে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে বলে সভায় জানানো হয়।


এছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনএসডিএর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যও অনুমোদন করা হয়। এসব লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—উদীয়মান খাতে স্কিলস গ্যাপ বিশ্লেষণ, সব উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএর কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা, বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো (BNQF) আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমশক্তিকে পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতির মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা সনদের অন্তর্ভুক্ত করা।
সভায় নৌপরিবহণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর