[email protected] সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১১ ফাল্গুন ১৪৩২

সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সারাদেশে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন : সেনাসদর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৩:৫৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাসদর।

আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার সেনাবাহিনীর দায়িত্ব ও চলাচলের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত সেনা টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানের রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।


তিনি জানান, পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ হাজার সেনাসদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং তারা সাধারণত দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করতেন।

তবে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত ও জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীকে ভোটকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই বাড়তি দায়িত্বের কারণেই সেনাসদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।


ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় যানবাহনের ঘাটতি থাকায় অসামরিক প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

কোথাও সেই সহায়তা পাওয়া না গেলে বেসরকারিভাবে যানবাহন ভাড়া করে টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সেনাসদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা গত ২০ জানুয়ারি থেকে জোরদার করা হয়েছে।


তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধাপে ধাপে সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়। গত ১০ জানুয়ারি মোতায়েন সংখ্যা ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজারে উন্নীত করা হয় এবং পরে ২০ জানুয়ারি থেকে তা এক লাখে পৌঁছায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচনী নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার এবং বিমান বাহিনীর তিন হাজার ৭৩০ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

সেনাবাহিনী সারাদেশের ৬২টি জেলায় ৪১১টি উপজেলায় এবং মহানগর এলাকায় মোট ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এসব ক্যাম্প থেকে নিয়মিত টহল, যৌথ অভিযান, চেকপোস্ট পরিচালনা এবং অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।


ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর হোসেন বলেন, যৌথ বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতির ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং অস্ত্র উদ্ধারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গত ২০ জানুয়ারি থেকে গত ১৪ দিনে প্রায় দেড় শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই বিদেশি পিস্তল। এ পর্যন্ত সেনাবাহিনী ১০ হাজার ১৫২টি অস্ত্র, ২ লাখ ৯১ হাজার গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে এবং ২২ হাজার ২৮২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতিকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।


নির্বাচনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সুরক্ষা অ্যাপ, পুলিশের বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা, ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


ব্যালট বা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জুলাইয়ের গণআন্দোলনে হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি জানান, এ লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সত্য ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানান সেনাসদরের এই কর্মকর্তা।


সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মোতায়েন ও প্রত্যাহার উভয় সিদ্ধান্তই সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর