[email protected] সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
১৩ মাঘ ১৪৩২

বিপজ্জনক’ ব্যক্তিদের তালিকায় পুলিশি নজরদারি, চট্টগ্রামে ৩২৯ জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ৮:৩৮ এএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে

 পুলিশ সদর দপ্তর। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পথে যারা বাধা হতে পারে, এমন ‘বিপজ্জনক’ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও কঠোর নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) ৩২৯ জনকে ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে শনাক্ত করে নগরীতে তাদের প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।


​কারা আছেন ‘বিপজ্জনক’ তালিকায়?
​পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকেই এই তালিকায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তালিকায় রয়েছেন:


​নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের চিহ্নিত নেতাকর্মী।


​অবৈধ অস্ত্রধারী, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী।
​বিগত সময়ে মব জাস্টিস বা সহিংসতায় নেতৃত্ব দানকারী ব্যক্তিরা।


​যারা আগে ভোটকেন্দ্র দখল বা ব্যালট ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জড়িত ছিল।


​পুলিশি তৎপরতা: 'অপারেশন ডেভিল হান্ট'
​পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সারাদেশে বর্তমানে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ ২’ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, "নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায় এমন যে কাউকে আইনের আওতায় আনতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


​পুলিশের জন্য ‘গাইডলাইন বুকলেট’
​নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে পুলিশ সদস্যদের জন্য একটি বিশেষ বুকলেট বা নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। এই বুকলেটে থাকা উল্লেখযোগ্য নির্দেশনাগুলো হলো:


​ভোট গ্রহণের অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত ও সন্দেহভাজনদের প্রবেশ বন্ধ করা।


​ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল বা প্যাট্রল পরিচালনা করা।


​যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা।

​কারাগার থেকে সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হওয়া সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের ওপরও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা নেই কিন্তু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বিশেষ আটকাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের আশপাশের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে কাজ করছে প্রশাসন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই পদক্ষেপ কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয় বরং ভোটারদের মনে আস্থা ফেরানোর একটি কৌশল।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর