[email protected] সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
১৩ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিনে সহিংসতার দায় আওয়ামী লীগের ওপর বর্তাবে : অন্তর্বর্তী সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ৭:৫৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন-পূর্ব সময় এবং ভোটের দিন কোনো ধরনের সহিংসতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার দায় সরাসরি আওয়ামী লীগের ওপর বর্তাবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অবস্থান জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে এক প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে সহিংসতা ও নাশকতার উসকানি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্যে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় তারা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। সরকারের মতে, এটি সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির পরিপন্থি।


বিবৃতিতে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পতনের আহ্বান জানান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ভণ্ডুল করার লক্ষ্যে দলীয় কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ জনগণকে সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াতে উসকানি দিয়েছেন।


সরকারের মূল্যায়নে, এ ধরনের বক্তব্য ও কার্যক্রম আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রচলিত রীতিনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি চরম অবমাননাকর। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্যও একটি ঝুঁকিপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করা হয়।


অন্তর্বর্তী সরকার আরও জানায়, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন উসকানিমূলক ভূমিকা প্রমাণ করে কেন দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো সহিংসতা বা নাশকতার জন্য সরকার সরাসরি আওয়ামী লীগকে দায়ী করবে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


বিজ্ঞপ্তিতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে দেশে ফেরাতে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখনো সে দায়িত্ব পালন করেনি। বরং ভারতীয় ভূখণ্ডে তাকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে বলে সরকার মনে করে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর