জাতীয় নির্বাচনের আগমুহূর্তে আজ বৈঠকে বসছে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
পরিকল্পনা কমিশনের নিকেতনে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এটি একনেকের অষ্টম সভা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে মোট ১৯তম বৈঠক।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজকের সভায় অনুমোদনের জন্য মোট ২৬টি প্রকল্প উপস্থাপনের প্রস্তুতি রয়েছে। এর মধ্যে একনেকের নির্ধারিত কার্যতালিকায় রয়েছে ২৩টি প্রকল্প, আর জরুরি বিবেচনায় আরও তিনটি প্রকল্প সরাসরি সভার টেবিলে তোলা হবে। সব মিলিয়ে এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা।
উপস্থাপিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন প্রকল্প রয়েছে ১৫টি, সংশোধিত প্রকল্প ছয়টি এবং পাঁচটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি পরিকল্পনা উপদেষ্টার অনুমোদিত ১০টি প্রকল্প সভায় অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হবে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার পানিসম্পদ ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের রয়েছে পাঁচটি। স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের রয়েছে দুটি করে প্রকল্প।
এ ছাড়া রেলপথ, যুব ও ক্রীড়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি করে প্রকল্প অনুমোদনের তালিকায় রয়েছে।
নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাঙামাটি–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, মুন্সীগঞ্জ জেলার কয়েকটি সড়ক উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্যানিটেশন কর্মসূচি, বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের জন্য বিকল্প শিক্ষা কার্যক্রম, বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী এক হাজার শয্যার হাসপাতাল প্রকল্প, আশুগঞ্জ–পলাশ সবুজায়ন উদ্যোগ, পরিষ্কার বায়ু প্রকল্প এবং চট্টগ্রামের পারকি সৈকতে পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণ।
মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব আসা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (চতুর্থবার), শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে উন্নয়ন, দোহাজারী–কক্সবাজার–ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ এবং সিলেট অঞ্চলের দুটি টেক্সটাইল প্রকল্প।
অন্যদিকে সংশোধনের জন্য তোলা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, স্মলহোল্ডার কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদী ড্রেজিং ও রাবার ড্যাম নির্মাণ, শরীয়তপুরে পদ্মার ডান তীর সংরক্ষণ এবং পারকি পর্যটন উন্নয়ন প্রকল্প।
সভায় সরাসরি উপস্থাপনযোগ্য তিনটি প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রথম সংশোধন প্রস্তাব, যেখানে ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
বাকি দুটি প্রকল্প হলো স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা উন্নয়ন এবং একটি অপ্রকাশিত প্রকল্প।
এ ছাড়া অবগতির জন্য উত্থাপিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, ৯টি সরকারি কলেজ উন্নয়ন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় উন্নয়ন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা বৃদ্ধি, র্যাব সদর দপ্তর নির্মাণ, নড়াইল শহরের মহাসড়ক উন্নয়ন এবং সৈয়দপুর ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র।
একনেকের নথি অনুযায়ী, দুটি প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও সেগুলোকে সমাপ্ত ঘোষণা করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্প দুটি হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাকাশ ও অবলোকন কেন্দ্র এবং খুলনা নভোথিয়েটার স্থাপন।
এছাড়া একটি প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবও সভায় উঠছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
পরিকল্পনা কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে একে শেষ একনেক সভা বলা না হলেও নির্বাচন-পূর্ব অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ উন্নয়ন বৈঠক হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের অধীনেই পরবর্তী একনেক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, যদিও জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে ভোটের আগেও আরেকটি সভা ডাকা হতে পারে।
এসআর
মন্তব্য করুন: