ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করা কেন আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের (এমবিসিবি) সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা রিটটি দায়ের করেন।
রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন এটর্নি জেনারেল (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আরশাদুর রউফ এবং অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল অনিক আর হক।
শুনানি শেষে ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক জানান, আদালত এনইআইআর ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া একটি আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনকারী শামীম মোল্লা বলেন, গত আড়াই মাস ধরে তারা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছিলেন। ডিসেম্বর মাসে কয়েক দফা বৈঠক হলেও সেখানে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, এরপর শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে নামলে পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় এবং নারী-শিশুসহ আন্দোলনকারীদের ওপর দমনমূলক আচরণ করা হয়। এমনকি ৫৫ জন ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার পর শেষ ভরসা হিসেবে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন তারা। আদালতের এই রুলকে তিনি প্রাথমিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন এবং ন্যায়বিচারের ওপর আস্থা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জানান, আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, মোবাইল হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন হবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে গত ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে মোবাইল ফোন বিক্রি বন্ধ রাখেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
এসআর
মন্তব্য করুন: