[email protected] বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৬ ফাল্গুন ১৪৩২

ত্রয়োদশ নির্বাচন দেশ বদলের সুযোগ, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে ছাড় নেই: এনসিপিকে প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ৯:১৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেছেন, এই নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়—এটি দেশের গতিপথ পাল্টে দেওয়ার সুযোগ। তাই এ নির্বাচনে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অবকাশ নেই।


সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।


এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম–এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তা উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। বৈঠকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন।


আলোচনায় এনসিপি নেতারা নির্বাচন নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দলটির নেতাকর্মীরা মাঠপর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সরকারের সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানান তারা।


জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা পরামর্শ দ্রুত সরকারের নজরে আনতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং কেউ যাতে আইন ভঙ্গ করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই মাঠ প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে রদবদল করা হয়েছে। তার ভাষায়, “এই নির্বাচনে কারও জন্য আলাদা সুবিধা বা পক্ষপাতের সুযোগ নেই। এটি দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন, এবং তা সুষ্ঠু হতেই হবে।”


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জানুয়ারির মধ্যেই দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি যেসব কেন্দ্রে ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকবে। এসব কার্যক্রম কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি পুরোপুরি আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় করা হচ্ছে। জনগণকে বোঝানো হচ্ছে—‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলকেও এ বিষয়ে নিজ নিজ অবস্থান জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।


শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়—সে দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলসহ সবার। এ ক্ষেত্রে সব দলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর