উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের খসড়া ও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং বাংলাদেশ বনজ শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন অধ্যাদেশ ২০২৬।
পাশাপাশি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘হার্ট ন্যাশনালি ডিটারমাইনড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি-৩)’ ভূতাপেক্ষ অনুমোদন পায়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব জানান, সংশোধিত ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ বিবেচনায় ডাটা লোকালাইজেশন সংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এখন থেকে কেবলমাত্র ‘ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এর ক্ষেত্রে দেশে ডাটা সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক থাকবে।
এছাড়া ব্যক্তিগত উপাত্ত ব্যবহারে কিছু শিথিলতা আনা হয়েছে এবং কোম্পানির ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পরিবর্তে আর্থিক জরিমানার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ এবং ক্লাউডভিত্তিক সেবাখাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, একাডেমির কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভাগের সংখ্যা বাড়িয়ে নয়টি করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় থিয়েটার, চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, নৃত্য ও পারফরম্যান্স আর্ট, সংগীত, চারুকলা, গবেষণা ও প্রকাশনা, নিউ মিডিয়া এবং কালচারাল ব্র্যান্ডিং ও উৎসব প্রযোজনার জন্য পৃথক বিভাগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে একাডেমির পরিচালনা বোর্ডে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করবে।
বাংলাদেশ বনজ শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন অধ্যাদেশ ২০২৬ সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯৫৯ সালের ফরেস্ট ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন অর্ডিন্যান্সকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে নতুন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।
এতে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার, পণ্যের বহুমুখীকরণ, শোরুম স্থাপন এবং যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। গত অর্থবছরে করপোরেশন কর-পূর্ব মুনাফায় ৫৩ কোটি টাকা আয় করেছে এবং রাবার শিল্পে প্রথমবারের মতো ৬ কোটি টাকা লাভ অর্জন করেছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
এনডিসি-৩ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ২০২২ সালে দেশে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ ছিল ২০২.০৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য, যা ২০৩৫ সালে বেড়ে ৪১৮.৪০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে।
নতুন পরিকল্পনায় মোট ৮৪.৯৭ মিলিয়ন টন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের নিজস্ব সক্ষমতায় ২৬.৭৪ মিলিয়ন টন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা পেলে অতিরিক্ত ৫৮.২৩ মিলিয়ন টন নিঃসরণ হ্রাসের পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: